আবিষ্কার: স্বল্প খরচে উপকূলে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রযুক্তি


উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিনিয়ত আচড়ে পড়ছে উত্তাল বঙ্গোপসাগরের অগণিত ঢেউ। সেই ঢেউকে কাজে লাগিয়ে স্বল্প খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করার যান্ত্রিক পদ্ধতি বের করেছে সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।
শতভাগ পরিবেশ বান্ধব ও জ্বালানিমুক্ত ‘ওয়েব পাওয়ার প্ল্যান্ট’ থেকে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ পদ্ধতি নজর কাড়ছে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে আয়োজিত ‘স্কিলস কম্পিটিশন-২০১৫’র চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায়। গতকাল ইয়াওমুস সাবত (শনিবার) সকালে শুরু হয়েছে এ প্রতিযোগিতা।
এ প্রযুক্তির উদ্ভাবক সিলেট পলিটেকনিকের মেকানিক্যাল টেকনোলজির চতুর্থ পর্বের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ তারেক, নবাব ইবনে কফিল ও তারেক মিয়া। তারা জানান, ৭১০ কিলোমিটার উপকূলে যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছানো কষ্টসাধ্য, সমুদ্রের ঢেউ দিয়ে সেখানে উৎপন্ন হবে বিদ্যুৎ।
ঢেউয়ের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানবকল্যাণে ব্যবহারের এই উদ্যোগ সম্পর্কে আব্দুল্লাহ তারেক বলেন, উপকূলের দরিদ্র জনগোষ্ঠী স্বল্প খরচে এই পাওয়ার প্ল্যান্ট ব্যবহার করতে পারবে।
নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় গ্রিডেও বিদ্যুতের সরবরাহ করা যাবে বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
যান্ত্রিক কৌশল সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা জানান, উপকূলে আচড়ে পড়া ঢেউয়ের ওপর ভাসমান থাকবে দু’টি ফ্লোটিং ডিভাইস, যা লিভারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এপাশে ভাল্ভের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পানি ওপরে তুলতে সক্ষম। ট্যাঙ্কে জমে থাকা সেই পানি পাইপের মাধ্যমে পড়বে জেনারেটরের মাথায় লাগানো প্যানেলে।
সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকেই জেনারেটরের মাধ্যমে উৎপন্ন হবে বিদ্যুৎ, যা ব্যবহার করা যাবে গৃহস্থালি ও অন্যান্য কাজে। প্ল্যান্টের ধরন অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
স্বল্প খরচে এমন বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতায় এসেছে সারাদেশের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো।
লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী তুললেই অটো সিগন্যাল!-
পিনাক-৬, এমভি মোস্তফাসহ বিভিন্ন লঞ্চ ডুবিতে শত শত মানুষের মৃত্যুর ট্র্যাজেডি সবারই জানা। অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও লঞ্চের ত্রুটির কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে বলে বিশেষজ্ঞ মত।
এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে লঞ্চ বা জাহাজে অতিরিক্ত লোড করলেই অটো সিগন্যাল পাঠানোর একটি ডিভাইস আবিষ্কার করেছেন এক শিক্ষার্থী।
দেশের নৌ দুর্ঘটনাগুলোর ৩৮ শতাংশই অতিরিক্ত লোডের কারণে ঘটে, জানিয়ে সুলতানুর জানান, লঞ্চ বা জাহাজ কর্তৃপক্ষ ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বহন করার চেষ্টা করলে ডিভাইসটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেড সিগন্যাল দেবে ও ইঞ্জিন চালু করতে দেবে না।
‘শিপ সেভিং ডিভাইস’ তথা জাহাজ রক্ষাকারী ডিভাইসটি নৌ-যানে যুক্ত করলে, লোড স্বাভাবিক হলে গ্রিন সিগন্যাল দিয়ে ইঞ্জিন চালু করতে দেবে। ডিভাইসের মাধ্যমে জাহাজের লোডের পরিমাণও প্রদর্শিত হবে।’
ডিভাইসটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, যদি কেউ ডিভাইসটি ডি-অ্যাক্টিভ করেন বা করার চেষ্টা করেন, তবে সঙ্গে সঙ্গে তার অজান্তে জাহাজ পরিচালনা কর্তৃপক্ষের কাছে মোবাইলের মাধ্যমে একটি এসএমএস যাবে। এতে কর্তৃপক্ষ জানতে পারবে, ডিভাইসটি ডি-অ্যাক্টিভ করা হচ্ছে বা হয়েছে।
নৌ-যান দুর্ঘটনায় যাত্রী নিহত হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ জানিয়ে সুলতানুর রহমান বলেন, প্রাণঘাতী ও হৃদয় বিদারক দুর্ঘটনা থেকে মুক্তি পেতে ও মূল্যবান জীবনগুলো রক্ষা করতে এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।
ডিভাইসটি বৃহৎ পরিসরে নৌযানগুলোতে ব্যবহার হলে দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা যাবে বলে দাবি রংপুর পলিটেকনিকের ইলেক্ট্রো মেডিকেল বিভাগের ষষ্ঠ পর্বের ছাত্র সুলতানুর রহমানের।
Previous
Next Post »