গাছটির নাম হাতিশুঁড়, হস্তিশুন্ডি হাতিশুঁড়ো, Hatishuro
ভেষজ নাম : Heliotropium indicum Linn..
ফ্যামিলি:- Boraginaceae
ফ্যামিলি:- Boraginaceae
গাছটির পুষ্পদন্ড গুলো এমন ভাবে হয় যা দেখেই এর নাম কেন হাতিশুর নাম করণ করা হয়েছে তা বুঝা যায়। লম্বা হয়ে হাতির শুরের মত একদম উপরের দিকে আবার পেঁচিয়ে থাকে। আমরা ছোট কালে এই গাছ কে বলতাম ছেজ্ঞা গাছ(বিছা গাছ) নাম জানতাম না বলেই একে আমরা এমন বলতাম তবে এর পুষ্পদন্ড বিছার সাথেও মিল রয়েছে। কিন্তু ঔষধি গুনের দিক দিয়ে এর রয়েছে চমৎকার ক্ষমতা। আল্লাহ্ পাক উনি এর মধ্যে এমন সব গুন রেখেছেন যা আমাদের জানা থাকা প্রয়োজন।
কোথায় এবং কখন জন্মে:
এটি শুকনা অথবা ভেজা প্রায় সব স্থানে জন্মে আমাদের গ্রাম বাংলায় এর দেখা মেলে যত্র তত্র। যদিও এখন এর পরিমাণ কমে এসেছে কিন্তু এখনো এটি বিরল বলা চলেনা। এ গাছ জন্মাবার কোন মৌসুম নেই সব মৌসুমে এ গাছ জন্মে। লম্বায় ১ থেকে ২ ফুট পর্যন্ত হয়। এই গাছটির ঝাঁঝালো গন্ধ ঠিক মেনথলের মত।
এর ঔষধি গুন:
- ফুলোয়- হঠাৎ ঠান্ডা লেগে হাতে পায়ের গাঁট ফুলে গেলে (এটা সাধারণত: কফের বিকারে হয়) এই হাতিশুঁড় পাতা বেটে অল্প গরম করে ঐ সব ফুলোর জায়গায় লাগালে ওটা কমে যায়।
- আঘাতের ফুলায়- এই পাতা বেটে গরম করে ঐ আঘাতের যায়গায় লাগালে ব্যথা ও ফুলো দুইই চলে যায়।
- বাগীর ফুলোয়- ঊরু ও তলপেটের সন্ধিস্থানে অর্থাৎ কু’চকীতে যেটা হয় তার নামই বলা হয় বাগী, ডান বা বাম যে কোন দিকেই হতে পারে। সাধারণ: এটা একান্ত নিবাসের সময় অস্বাভাবিক অবস্থানের জন্য অথবা মেহ বা ঔপসর্গিক মেহ (গনোরিয়া) রোগগ্রস্ত লোকগুলি এই রোগের বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায়। এক্ষেত্রেও ঐ পাতা বেটে অল্প গরম করে লাগালেও কমে যায়।
- রিউমেটিকে- এই বাতে ফুলো থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে। এগুলি সাধারণত: অস্থির সন্ধিস্থানে (গাঁটে) বেশী হয়। এ ক্ষেত্রে এরন্ড তৈলের (রেডির তেল) সঙ্গে এই পাতার রস বা পাতা বাটা দিয়ে পাক করে ছেঁকে নিয়ে সেই তৈল গাঁটে লাগাতে হয়। রেডির তেল বৈদ্য দোকানে পাওয়া যায়।
- বিষাক্ত পোকার কামড়ে- জ্বালা করে কোন কোন ক্ষেত্রে ফুলেও যায়, সে সময় এই পাতার রস করে লাগালে ওটা কমে যায়।
- শ্লেষ্মা জ্বরে- সর্দিতে বুক ভার, সেক্ষেত্রে এই পাতার ২ চামচ একটু গরম করে ছেঁকে নিয়ে খেতে দিতেন প্রাচীন বৈদ্যরা। এর দ্বারা সর্দিটা বমি হয়ে বেরিয়ে যায়।
- টায়ফায়েড জ্বরে- পিপাসা ও সঙ্গে মাথা চালাও প্রবল থাকে, এ ক্ষেত্রে ঐ পাতার রস গরম করে ছেকে ঐ রস ১০ ফোঁটায় একটু পানিতে মিশিয়ে খেতে দিতে হয়। আধ ঘণ্টা অন্তর দুই/তিন বার খাওয়ালে এই উপসর্গটা প্রশমিত হয়, তবে দুই তিন বারের বেশী খাওয়ানো উচিত নয়।
- ফেরিনজাইটিসে- অথবা লেরিন জাইটিস হলে পাতার রস ২ চামচ আধ কাপ অল্প গরম জলে মিশিয়ে গরগরা (গরগরা) করতে হয়। প্রত্যহ সকালে বিকালে দুই বার করতে পারলে ভাল। এমন কি গলার মধ্যে ক্ষত ভাব দেখা দিলে সেটাও সেরে যায়। তবে এসব ক্ষেত্রে এর সঙ্গে ২/৩ চামচ বাসক পাতার রস একটু গরম করে প্রত্যহ একবার করে খেতে পারলে কফের বিকারটা নষ্ট হয়।
- এক্জিমায়- এই পাতার রস লাগালে কমে যায়।
- ব্রণ এবং দাগ- গাছের পাতা ও তার কচি ডাল থেঁতো করে দুপুরে গোসল করতে যাবার ১ঘন্টা আগে ব্রণের ওপর প্রলেপ দিলে ব্রণ সারে এবং নতুন করে আর ব্রণ হয় না |

EmoticonEmoticon