প্রসূতিগৃহে থাকা বিজ্ঞান দিয়ে, পরিপূর্ণ দ্বীন ইসলাম উনার শ্রেষ্ঠত্ব বোঝা সম্ভব না

প্রসূতিগৃহে থাকা বিজ্ঞান দিয়ে, পরিপূর্ণ দ্বীন ইসলাম উনার শ্রেষ্ঠত্ব বোঝা সম্ভব না


বেশ অনেক বছর আগে (সম্ভবত ১৯৯৬-৯৭ এর দিকে) প্রচার হয় কম্পিউটার নাকি রায় দিয়েছে, কুরআন শরীফ মানব রচিত নয়। ব্যাপারটা নিয়ে তখন এতো আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল যে, কিছু কিছু ওয়ায়েজ পর্যন্ত কম্পিউটারের বরাত দিয়ে মানুষজনকে উদ্বুদ্ধ করেছে কুরআন শরীফের উপর আমল করার!
এতে কি মহান আল্লাহ পাক উনার চেয়ে কম্পিউটারকে বেশী গুরুত্ব দেয়া হল না? কম্পিউটার বলেছে জন্যই কুরআন শরীফ শ্রেষ্ঠ? পরে যদি আরো অত্যাধুনিক কোন কম্পিউটার কুরআন শরীফকে অস্বীকার করে, তাহলে সেটাই সঠিক? নাউযুবিল্লাহ! মুসলমানদের জন্য তো এটুকুই যথেষ্ট যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, “এটা সেই কিতাব, যাতে কোন সন্দেহ নেই।” (সূরা বাক্বারাঃ ২)। সুবহানাল্লাহ!
সম্প্রতি Autophagy বিষয়ে জাপানের এক রিসার্চার নোবেল পেয়েছে। যার মূল কথা হল, ফাস্টিং শরীরের জন্য উপকারী। ব্যাস! এরপর থেকে এই থিওরি নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু হয়েছে। কিছু মুসলমান সেটার বরাত দিয়ে বলছে, এজন্যই দ্বীন ইসলামে রোযার বিধান দেয়া হয়েছে। সেটা দেখে কিছু হিন্দু বলছে, Autophagyর কথা তাদের ধর্মে নাকি ৫০০০ বছর আগেই বলা হয়েছে! আবার এই সুযোগে কিছু নাস্তিক, ইসলাম বিদ্বেষী প্রচার করছে, মেডিক্যাল ফাস্টিং শরীরের জন্য উপকারী, কিন্তু রোযা ক্ষতিকর! নাউযুবিল্লাহ!
Autophagy বলুন আর ফাস্টিং বলুন, এগুলোর উপর কি রোযার মাহাত্ম্য নির্ভর করছে? বাহ্যিকভাবে কোন উপকার যদি দেখা নাও যেত তবু কি তা মুসলমানদের জন্য বিনা প্রশ্নে পালন করা কর্তব্য ছিল না? মানুষকে অল্প ইলিম ব্যতীত দেয়া হয়নি। এই অল্প ইলিম দিয়ে সমগ্র জাহানের যিনি রব উনার কাজের হিকমত বোঝা যেমন সম্ভব না; তেমনি প্রসূতিগৃহে থাকা বিজ্ঞান দিয়ে পরিপূর্ণ দ্বীন ইসলাম উনার শ্রেষ্ঠত্ব বোঝাও সম্ভব না। বুঝতে গেলে গোমরাহ হবার সম্ভাবনাই বেশী।

Previous
Next Post »