মুসলিম ও অমুসলিম সমস্ত দেশের সরকারের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুবারক নছীহত হচ্ছে- পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার পবিত্র মাস; সাইয়্যিদুল আসইয়াদ, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূর, শাহরুল আ’যম পবিত্র মাহে রবীউল আউওয়াল শরীফ। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, ‘হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি যদি আপনাকে সৃষ্টি না করতাম; তবে আসমান-যমীন, লওহ-কলম কোনো কিছুই সৃষ্টি করতাম না।’ সুবহানাল্লাহ!

যা আসতে আর মাত্র ৪১ দিন বাকি। তাই মুসলিম দেশসহ বিশ্বের সমস্ত সরকারের জন্য ফরয হচ্ছে, এখন থেকেই সরকারিভাবে উক্ত মহাপবিত্র মাস উনার মর্যাদা-মর্তবা সম্পর্কে দেশবাসীকে সম্যক অবগত করিয়ে সাধ্য-সামর্থ্য অনুযায়ী খুশি প্রকাশ করা ও করানোর সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। পাশাপাশি সরকারিভাবে মহাসমারোহে ‘পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ’ পালনের সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা, সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করা ও পর্যাপ্ত ছুটির ব্যবস্থা করা।

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করার মাঝেই মাখলুকাতের কামিয়াবী নিহিত। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ’ উনার ৫৮ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মাহকে জানিয়ে দিন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ফযল-করম এবং রহমত হিসেবে উনার প্রিয়তম হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়াস্বরূপ দিয়েছেন- সেজন্য তারা যেন খুশি প্রকাশ করে।” মূলত দুনিয়ার যমীনে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক আগমন ও বিদায় এবং বিশেষ ঘটনা সংঘটিত হওয়ার দিন তথা মাস উম্মাহর জন্য পবিত্র ঈদ বা খুশির অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যেকোনো লোক, যেকোনো সময়, যেকোনো নিয়ামত লাভ করলে সে সন্তুষ্ট হয়, খুশি প্রকাশ করে। সাধারণ দুনিয়াবী কারণে যদি মানুষ এত খুশি হয়, তাহলে যিনি আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষে কতটুকু খুশি প্রকাশ করতে হবে! মূলত, যার যতটুকু তাওফীক রয়েছে, যেভাবে তাওফীক রয়েছে ঠিক ততটুকু সেভাবে সে খুশি প্রকাশ করবে; তাহলে তার জন্যে কামিয়াবী রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! 

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, অত্যান্ত আফসূসের সাথে বলতে হয় যে, সরকারিভাবে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করা হয় ভিআইপি রাস্তায় সামান্য কিছু রঙিন পতাকা, ব্যানার ইত্যাদি টানিয়ে। বিচ্ছিন্নভাবে অন্তঃসারশূন্য কিছু মাহফিল, সেমিনার ইত্যাদির ব্যবস্থা করে এবং একেই যথেষ্ট বলে মনে করা হয়। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! অথচ তুলনামূলকভাবে দেখা যায়, এদেশে মুশরিকদের স্মরণ ও হিন্দুদের পূজাসহ অন্যান্য বিধর্মীয় ও বিজাতীয় অনুষ্ঠানে, তাদের দলীয় অনুষ্ঠানগুলোতে এবং হারাম খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয় তার চেয়ে অনেক অনেক কম অর্থ কেবল নয়, বরং কম উৎসাহ ও কম আয়োজনের দ্বারা যেনতেনভাবে সাইয়্যিদুল আ’দাদ পবিত্র ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ উনার মতো মহাপবিত্র দিনকে অতিক্রান্ত করা হয়। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! 

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, অথচ পবিত্র ঈমান উনার একান্ত দাবির কারণেই শুধু এ মুবারক দিনেই কেবল নয়, বরং পুরো পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসব্যাপী সরকারি-বেসরকারি সর্বমহলে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করে অত্যন্ত খুশির সাথে, ব্যাপক আয়োজনে, বিপুল উৎসাহে, গভীর মূল্যায়নে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালিত হওয়া ফরযে আইন উনার অন্তর্ভুক্ত।

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পাশাপাশি সমস্ত মুসলিম ও অমুসলিম সরকারের জন্যও ফরয হচ্ছে- সারা বিশ্বব্যাপী সাইয়্যিদুল আসইয়াদ, সাইয়্যিদু সাইয়্যদিশ শুহূর, শাহরুল আ’যম, মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস এবং পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে এখন থেকেই পরিপূর্ণ তা’যীম-তাকরীম, আদব-মুহব্বত ও খুশি এবং শান-শওক্বত উনার সাথে সার্বিক ব্যবস্থা নেয়া এবং সে লক্ষ্যে সব দেশে কমপক্ষে এক মাসব্যাপী অর্থাৎ সম্পূর্ণ পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসে ছুটি প্রদান করা। যাতে সকলেই কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ, সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ যথাযথভাবে পালন করতে পারেন। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা আমাদের সকলকে সেই তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-০-
Previous
Next Post »