কিতাব পরিচিতি: “বিজ্ঞান মুসলমান উনাদেরই অবদান”- ৮ম খন্ড


“বিজ্ঞান মুসলমান উনাদেরই অবদান” এই শিরোনামে দুই ফর্মার কিতাবটির ৮ম খন্ড প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম খ-টি প্রকাশিত হয় ১৪৩৫ হিজরীর ৯ই রমাদ্বান শরীফে তারপর থেকে এই কিতাব প্রকাশের যাত্রা অব্যাহত আছে।
কিতাবের শুরুতেই একজন মহান ব্যাক্তিত্ব উনার সাক্ষাৎকার রয়েছে। বিজ্ঞান বিষয়ে অসাধারণ এই সাক্ষাৎকার শুনে উনাকে কেবল বিজ্ঞানী বা বিজ্ঞান মনস্ক মানুষ বললে কেবল কমই বলা হবে না বরং আদবের ত্রুটি হবে। তিনি যেখানে মহান আল্লাহ পাক উনার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ এবং খলীফাতুল উমাম হিসেবে মশহুর আমরা উনার সেই পরিচয়ই উপস্থাপন করবো। পূর্বে করা মুসলিম বিজ্ঞানীদের সৌর ক্যালেন্ডার ছিল অসম্পূর্ণ, তিনি নতুন পদ্ধতিতে নতুনভাবে সৌর ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করে “শামসী সন” নামে বিশ্ববাসীকে হাদিয়া করেছেন। এই কিতাবে একজন লেখক ধারাবাহিকভাবে সেই শামসী সন ব্যাখ্যা করে যাচ্ছেন।
পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মাঝে আকাশের বজ্র বা বিজলী এবং সেখানে তৈরি হওয়া বিদ্যুতের বর্ণনা বিজ্ঞানের আলোকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে তা এক কথায় “অসাধারণ”।
প্রতিদিনের কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটারের সাথে যে এল সি ডি (খঈউ) মনিটর ব্যবহার হয় তার সম্পর্কে ধারনা দেয়া হয়েছে চমৎকারভাবে। এছাড়া সামরিক, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে মুসলমান উনাদের যে অবদান ছিল তা এবং যেভাবে সেই সব তথ্য চুরি হয়েছে তাও এসেছে সুন্দরভাবে। অর্থাৎ মুসলমান বিজ্ঞানীদের তত্ব এবং তথ্য কিভাবে ইহুদী, নাছারা, কাফির-মুশরিকরা চুরি করে নিজেদের নামে প্রকাশ করেছে, সে বিষয় দলীল ভিত্তিক লেখা রয়েছে। যা জানা প্রত্যেক মুসলমানানের জন্য অবশ্যক।
অনেক মুসলমান বিজ্ঞানিদের নাম যেভাবে বিক্রীত করা হয়েছে তা প্রশ্ন-উত্তর পর্বের মাধ্যমে যথেষ্ট সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের অবদানের বিষয়টি তুলে ধরাটার যথেষ্ট প্রয়োজন ছিল এবং আগামীতেও আমরা আরো এরকম লেখা আশা করছি।
গ্রীনিচের পরিবর্তে পবিত্র কাবা শরীফ থেকে প্রাইম মেরেডিয়ান স্থির করার দাবী অনেক আগে থেকেই এই কিতাবে বর্ণিত হচ্ছে। এই দাবী যথার্থ এবং আমরা এর বাস্তবায়নে সকল মুসলিম দেশের সহযোগীতা আশা করছি।
বিজ্ঞানের অনেক বিষয়ের বর্ণনা যে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে আছে তার আর একটি প্রমান হচ্ছে “ফিঙ্গার প্রিন্ট” নিয়ে লেখাটি। আর উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার প্রসঙ্গে উপস্থাপিত বিষয়টি থেকে এটা সহজেই প্রমানিত যে কায়িনাতের সকল জ্ঞানের উৎসই হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা।
সব মিলিয়ে অনেক তথ্যবহুল এবং সুখপাঠ্য এই কিতাবখানি সকলের সংগ্রহে এক কপি থাকা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। বইটি পেতে চাইলে ০১৭১০-৩২০৪১২,০১৭১৭-২২৬৬৬৪ এই নাম্বারসমূহে অথবা রাজারবাগ শরীফের বিক্রয় কেন্দ্রে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
Previous
Next Post »