কেশ রাজ এর গুন!

Related image

আলাদা করে দেখানো কেশ রাজ গাছের বিভিন্ন অংশ
কেশ রাজ: চুলের জন্য অনন্য বালেই সম্ভবতা এর নাম  কেশ রাজ।
স্থানিয় নাম:  কেউতি,কালোকেশিরিয়া, কালসাতার গাছ।
ইউনানী নাম : বাংড়া।
ইংরেজি নাম : False Daisy।
পরিবার:  Compositae।
বৈজ্ঞানিক নাম: Ectipta prostrata Linn,Elcipta alba Hask।
পরিচয়: বর্ষজীবী কেশরাজ গুল্ম জাতীয় উদ্দ্ভিদ।
শাখা: লতানো। শাখা থেকে প্রশাখা বের হয়। শাখা বা প্রশাখা বের হয় বিপরীতভাবে। লম্বায় ৫০ থেকে ৬০ সে.মি. কালছে,রসে ভার ভারী। শাখা প্রশাখা এতটাই ভারী যে সেগুলো নিচের দিকে হেলানো থাকে। শাখা-প্রশাখার মত পাতাও বিপ্রতীপ ভাবে বের হয়।
পাতা: কেশরাজের পাতা খুবই ছোট। গাঢ় সবুজ রঙের। লম্বায় ৪ থেকে ৫সে.মি,চিকন। পাতার কোল থেকে প্রশাখা বের হয়। এই প্রশাখার শেষ প্রান্তে ২/৩ টি ফুল ফোঠে।
ফুল: পুল সাদা। অনেক গুলো সাদা সাদা রঙের পরাণ নালী। বৃতি পাচঁটি,সংযুক্ত। ফুল থেকে ফল হয়। ফুল র্অপ কয়েকদিনে ঝরে পড়ে ও ফল বাড়তে থাকে।
ফল: ফল গাঢ় সবুজ। প্লটের মত। ফলের ভেতর অতি ক্ষুদ্র বীজ। বীজের খোসা শুকোনো মাটির মত। খোসার ভেতর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কালো রঙের অসংখ্য বীজ থাকে। ফল ফেটে বীজ পড়ে চারা গজায়।
উপকারী অংশ: পাতা,কাণ্ড,ফুল ও ফল।
এই উদ্ভিদে এ্যালকোলয়েড স্টেরল,ইউডে লোল্যাকটোন,লিউটেইওলিন,গ্লাইকোসাইড,ট্রিটারপেন,গ্লাইকোসাইড এবং ফাইটেস্টেরল বিদ্যমান।
ব্যবহার:
» উদ্ভিদটি পানি দিয়ে নির্যাস তৈরী করে মায়োকার্ডিয়াল ডিপ্রেস্যান্ট ও হাইপোটেনসিভ এবং কয়েকটি পাতা বেটে খেলে কৃমি ও কাশি উপশম হয়।
» উদ্ভিদটির পাতা, ফুল ও ফলসহ সারাদেহ বেটে রস তৈরী করে নিয়মিত কয়েকদিন মাথায় দিলে মাথা ঠাণ্ডা হয়,
» এই গাছ থেকে কালো একধরনের রং বের করা হয়, যা চুল কে আরো কালো করতে সাহায্য করে
»  এছাড়া এই গাছের রস চুল পরা বন্ধ করে, চুল লম্বা ও কালো হয় । প্রতিদিন রসের যোগান দেয়া সম্ভব না হলে এক কাপ রস তৈরী করে ২৫০ মিলিলিটার তিল তেল বা নারকেল তেল মিশিয়ে ব্যবহার করলে একই ফল পাওয়া যায়।
» শরীরের কাটা যাওয়া স্থানে কেশরাজের পাতা বেটে পেস্ট বানিয়ে লাগালে সঙ্গে সঙ্গে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে কাটা স্থানের ক্ষত শুকিয়ে যায়। প্রদাহনাশক, ব্রঙ্কোডায়ালেটর, এন্টিসেপটিক ও রক্তপরা বন্ধে ব্যবহৃত হয়।
» লিভারের সুরক্ষায় কেশরাজে বিদ্যমান অ্যামিডোপাইরিন এন-ডিমথাইলিন গ্লুকোজ-৬ ফসফেটের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে লিভার এ্যাবসেস, লিভার সিরোসিস, লিভারের প্রদাহ, জন্ডিস দূর করতে সাহায্য করে। লিভার টনিক হিসেবে কাজ করে।
» কেশরাজের নির্যাস কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে।
» ভিডাল্যাকটন এবং ডিমিথাইলভিডাল্যাকটনসমৃদ্ধ কেশরাজ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
» নিয়মিত ২ চা চামচ পরিমাণ কেশরাজের রস সেবন করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। কেশরাজের রস ব্লাড সুগার লেভেল ও গ্লাইকোসাইলেটেড হিমোগ্লোবিন এর পরিমাণ কমায় এবং গ্লুজোজ-৬ ফসফেট এবং ফ্রুকটোজ ১, ৬ ডাইফসফেট এর কার্যকারিতা কমায় ও লিভারের হেক্রোকিনেজ এর কার্যকারিতা বাড়ায়।
আমরা এক কথায় বলতে পারি খালিক মালিক রব আল্লাহ্ পাক উনি আমাদের হাতের কাছে কত সহজ নিয়ামত রেখেছেন যা আমরা বান্দারা ব্যবহার করে উনার শুকরিয়া আদায় করতে পারি।
Previous
Next Post »