জাহান্নামের সহজ পথ!

 Image result for জাহান্নামের সহজ পথ!



সাধারণতঃ কোনো অবাস্তব বিষয়কে বাস্তব করে বলা কিংবা ঘটেনি এমন বিষয়কে ঘটেছে বলে দাবি করার নাম মিথ্যা। আর জাহান্নামে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ এবং শর্টকাট পথ ও পদ্ধতি হচ্ছে মিথ্যা বলা। যে নামেই এর প্রকাশভঙ্গি হোক, সবার গন্তব্য একই কেন্দ্রে নির্ধারিত। অর্থাৎ জাহান্নাম অবধারিত।
এ তো গেল পরকালের কথা। কিন্তু এ পার্থিব সংসারে! সামান্য মিথ্যা যে করো সব সুখ্যাতি, পরিচয়, অর্জন ও সাফল্য ধুলোয় মিশিয়ে দিতে যথেষ্ট। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব কিংবা আস্থার সম্পর্ক বিনষ্টে এর চেয়ে কার্যকরী উপাদান আর নেই।
আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা কখনো মিথ্যা বলবে না। মিথ্যা পাপের দিকে নিয়ে যায়। আর পাপ মানুষকে জাহান্নামে পৌঁছে দেয়। কোনো বান্দা যখন সবসময় মিথ্যা বলে ও মিথ্যা নিয়েই ভাবে, তখন মহান আল্লাহ পাক উনার কাছেও সে মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিতি পেয়ে যায়।” (বুখারী ও মুসলিম)
গণতন্ত্র ব্যতীত পৃথিবীর কোনো ধর্ম কিংবা কোনো শাস্ত্রে মিথ্যা বলার বৈধতা নেই। অতীতের কোনো ধর্মেও ছিল না। শুধু গণতন্ত্রে অলিখিতভাবে তথা ওপেনসিক্রেট হিসেবে মিথ্যা বলার স্বীকৃতি আছে। মিথ্যাচার ও ধাপ্পাবাজি ছাড়া গণতান্ত্রিক রাজনীতি অচল।
এভাবে গণতান্ত্রিক ক্ষমতাধররা শোষণের হাতিয়ারকে শাণিত করে। অথচ মানুষে মানুষে বিশ্বাস ও আস্থার তথা সুশাসনের প্রথম ভিত্তি সত্য ও সততা। একটি মিথ্যা থেকে শুরু হতে পারে ব্যাপক দ্বন্দ্ব ও ধ্বংসের সূচনা। পৃথিবীর ইতিহাসে অজস্র হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলার মূলে রয়েছে একটি মিথ্যা। সেই মিথ্যা থেকে ছড়ায় আরো অনেক মিথ্যার ডালপালা। এভাবেই সূচনা হয় ঝগড়া ও অবিশ্বাসের পথচলা। শত্রুতার জন্মও এখান থেকে; যা যুদ্ধ-বিগ্রহ পর্যন্ত বাধাতে পারে।
নগদ কোনো লাভ বা উপকার পেতে কিংবা কোনো ক্ষতির হাত থেকে বাঁচার জন্য মানুষ মিথ্যা বলে। সে ভাবে- এতেই তার নিরাপত্তা রয়েছে। নগদ লাভের মোহে কাঁধে তুলে নেয় সুদূরপ্রসারী ক্ষতির দুর্ভাবনা।
অন্যের কাছে নিজের কথা আকর্ষণীয় ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্যও মানুষ মিথ্যা কথা বলে। আর ভাবে- এটুকু মিথ্যা না মেশালে কথার আকর্ষণটা থাকবে না। সাময়িক এ মোহ বক্তাকে নিয়ে যেতে পারে স্থায়ী ক্ষতির অতল গভীরে।
এর বাইরেও মানুষ নানা কারণে মিথ্যা বলে। মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ায় নিজের উদ্দেশ্য হাছিলে। গোটা সমাজ তখন কলুষিত হয় মিথ্যার বিষবাষ্পে। সমাজের বিশুদ্ধতা রক্ষা ও আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে মানুষের মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্যই পবিত্র দ্বীন ইসলাম সব ধরনের মিথ্যাকে হারাম ঘোষণা করেছেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার সূরা বনী ইসরাইলের ৩৬ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “যে বিষয়ে তোমার জানা নেই, তার অনুসরণ করো না।”
লোকদের হাসানোর জন্য মিথ্যা কৌতুক বলায় পারদর্শী লোকের অভাব নেই আমাদের সমাজে। এমন লোকদের প্রসঙ্গে আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ওই লোক সত্যিই দুর্ভাগা, যে মানুষকে হাসানোর জন্য কথা বলে ও তাতে মিথ্যা মেশায়। সে বড়ই দুর্ভাগা, হতভাগা।” (আহমদ, আবু দাউদ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে- “আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কোনো মু’মিন কি কৃপণ হতে পারে? তিনি বলেছিলেন, হ্যাঁ, হতে পারে। আরো জানতে চাওয়া হলো, মু’মিন ব্যক্তি কি ভীরু হতে পারে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, হতে পারে।
কিন্তু যখন আরজ করা হলো, মু’মিন কি মিথ্যাবাদী হতে পারে? তখন আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, কারো হৃদয়ে ঈমান ও মিথ্যা একসঙ্গে থাকতে পারে না।” অন্য এক পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে তিনি মুনাফিকের যে তিনটি নিদর্শন বর্ণনা করেছেন, সেগুলোর প্রথমটি হলো- সে যখন কথা বলে তখনই মিথ্যা বলে। আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “সত্য মানুষকে মুক্তি দেয়, মিথ্যা মানুষকে ধ্বংস করে।”
মিথ্যার ভয়াবহতা ও পরকালে এর পরিণতি অল্পকথায় বোঝানো সম্ভব নয়। স্বয়ং মিথ্যাবাদী যখন অন্যের কাছে মিথ্যা আশা করে না, তখন এর মন্দ দিকের সামান্য অংশ খুব সহজেই অনুমেয়। কাজেই জীবনে চলার পথে যে কোনো প্রয়োজনে মিথ্যার আশ্রয় নেয়া থেকে বিরত থাকা আমাদের প্রথম কর্তব্য। সত্যবাদী মানুষ সবার কাছে প্রিয়, এখানেই তার প্রথম সাফল্য।
কাজেই সাময়িক লাভ বা সামান্য নগদ ফায়দার জন্য মিথ্যার কলঙ্কে না গিয়ে সত্য ও সততার শুভ্রতায় নিজের ইহজগত ও পরকাল সাজিয়ে তোলার চেষ্টা করুন।
http://infopade.com/6DAphttp://infopade.com/6DAp

Previous
Next Post »