বহেড়া এর গুন!

বহেড়া 

বহেড়া: এক ধরনের ঔষধি ফল।
সদয়:  Terminalia 
বৈজ্ঞানিক নাম: “Terminalia belerica”
ইংরেজী নাম: Beleric
পরিবার:  Combretaceae
সংকৃতিক নাম: ভিবিটাকা ( विभितक ) অকসা (अक्ष)
অন্য নাম: বিভিতকি, তবে বহেড়া নামেই বেশি পরিচিত।
গাছের বৈশিষ্ঠ: বহেড়া গাছ ১৫-২৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। এর বাকল ধূসর ছাই রঙের। পাতা কাঁঠাল পাতার মতো মোটা, লম্বায় প্রায় ৫ ইঞ্চি। এর ফুল ডিম্বাকৃতির প্রায় ১ ইঞ্চির মতো লম্বা। কাঁচা পাকা বহেড়া ফলের রঙ সবুজ থাকে। পেকে গেলে লাল যার। পর শুকিয়ে ক্রমশ বাদামী। ফলের বাইরের আবরন মসৃণ ও শক্ত এবং ভেতরে একটি মাত্র শক্ত বীজ থাকে। প্রচীন কালে ভারত উপমহাদেশে এর বীজ পশা খেলায় ব্যবহৃত হত। সামতল বা কম উচ্চতায় এ গাছ জন্মে। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের ভেতর এর ফল পেকে যায়। বহেড়া বিশেষভাবে পরিশোধিত করে এর ফল, বীজ এবং বাকল ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন রোগের প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়। বহেড়ার কাঠ হরিদ্রাভ ও শক্ত। এ কাঠ সহজে পানিতে পচে না। এটি নৌকা তৈরিতে ব্যবহার হয়। ফল থেকে লেখার কালি বানানো হয়। বীজ থেকে বিশেষভাবে অঙ্কুরোদ্গম করা হয়।

ঔষধি গুণাগুন:
  • হজমশক্তি বাড়াতে: বহেড়া হজমশক্তি বৃদ্ধিকারক। এ ফলের খোসা ভালো করে গুঁড়ো করে নিন। পানির সঙ্গে এ গুঁড়ো দিনে দুবার খেয়ে যান। ক্ষুধামান্দ্য তাড়াতেও একই প্রণালি অনুসরণ করতে পারেন।

  • শ্লেষ্মা নিরাময়ে: প্রথমে বহেড়া পিষে নিন। এর সঙ্গে গরম ঘি মিশিয়ে আবার গরম করে নিন। শেষে মধু দিয়ে খেয়ে ফেলুন। পাশাপাশি সর্দি-কাশি তাড়াতেও বহেড়া বেশ উপকারে আসে।

  • আমাশয় থেকে দূরে থাকতে: আমাশয়ে ভুগছেন? তাহলে প্রতিদিন সকালে বহেড়ার গুঁড়ো মেশানো পানি খেয়ে যান। উপকার পাবেন।

  • হাঁপানি থেকে মুক্তি পেতে: বহেড়া বীজের শাঁস ২ ঘণ্টা অন্তর চিবিয়ে খেলে হাঁপানি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী এ পদ্ধতি মেনে চলুন।

  • কৃমি নাশ করে: পেটে কৃমি হয়েছে? হাতের কাছে সমাধান হিসেবে বহেড়া রয়েছে।

  • ডায়রিয়া প্রতিকারে: ডায়রিয়া হলে বহেড়ার খোসা পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। অল্প মাত্রায় খেলে এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় না। তবে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে খাওয়া উচিত।

  • অনিদ্রা রোগে: রাতের পর রাত নির্ঘুম কেটে যায়? এখন থেকে চমত্কার ঘুমের জন্য বহেড়া খেয়ে যান।

  • ফোলা কমাতে: শরীরের কোনো অংশ ফুলে গেছে এবং ব্যথা লাগছে? এবার তাহলে বহেড়ার ছাল বেটে নিন। একটু গরম করে এ ছাল দিয়ে ফুলে যাওয়া স্থানে প্রলেপ দিন। ব্যথা ও ফোলা কমে যাবে।

  • শ্বেতি থেকে বাঁচতে: বহেড়ার বিচির শাঁসে তেল থাকে। এ তেল দিয়ে শ্বেতি স্থানে প্রলেপ দেয়া যেতে পারে। আশা করা যায়, অল্প দিনের মধ্যে রঙ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

  • চুল পাকা প্রতিরোধে: ১০ গ্রাম পরিমাণ বহেড়ার ছাল পানি মিশিয়ে থেঁতো করে নিন। এ থেঁতলানো বস্তু এক কাপ পানিতে ছেঁকে নিন। এবার পানিটুকু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। তবে এ পদ্ধতি সম্পর্কে খুব একটা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় না।

ভেষজ দাওয়াই
কথিত আছে, প্রতিদিন বহেড়া ভেজানো পানি এক কাপ পরিমাণ পান করলে দীর্ঘায়ু হওয়া যায়। বহেড়া হৃৎপিণ্ড এবং যকৃৎ রোগের আক্রমণ কমায়। সর্দি-কাশি নিরাময় করে। এটা কৃমিনাশক, স্বরনাশক এবং অনিদ্রা দূর করে। এ ছাড়া পাইলস, হাঁপানি ও কুষ্ঠরোগে বহেড়ার চিকিৎসা বেশ ফলপ্রসূ।
Previous
Next Post »