অপরাজিতা এর গুন!
স্থানীয় নাম : অপরাজিতা
ভেযজ নাম /বৈজ্ঞানিক নাম : Clitoria ternatia Linn,
পরিবার: Popilionaceae
গোত্র: Cicereae
গণ: Clitoria
প্রজাতি: C. ternatea
আদিবাসি নামঃ অঔমাবেওয়াবং (রাখাইন), বে সং ক্রা (মুরং), অমিও (মারমা)
নাম সমুহ:
- ইংরেজি: Butterfly pea, blue pea vine, mussel-shell climber, pigeon wings
- হিন্দি: Aparajita (अपराजिता)
- বাংলা ভাষায়: অপরাজিতা
- কন্নড়: Nagar hedi
- মালয় ভাষা: বুঙ্গা তেলাংগ Bunga telang}}
- মালয়ালম ভাষা: ശംഖുപുഷ്പം, সঙ্খপুস্পম
- মারাঠি ভাষা: गोकर्ण, গোকর্না (Gokarna)
- ধিভেয়ি ভাষা: কুলহাধিরিমা (Kulhadhirimaa)
- পর্তুগিজ: Fula criqua
- সংস্কৃতি ভাষা: Sankhapushpi (शंखपुष्पी), aparajita(अपराजिता), saukarnika , ardrakarni, girikarnika(गिरिकर्णिका), supuspi (सुपुष्पी), mohanasini (मोह्नाशिनी), vishadoshaghni (विषदोषघ्नी), shwetanama (श्वेतनामा)., Vishnukranta (विष्णुक्रांता), ashwakhura (अश्वखुरा)}
- তামিল ভাষা: সাঙ্গু পু (Sangu pu)
- থাই: ดอกอัญขัญ (dok anchan)
ব্যবহার্য অংশ : ফুল, পাপড়ি, মূল ও গাছের লতা
রোপণের সময় : বর্ষাকাল
উত্তোলণের সময় : বছরের যে কোন সময় সংগ্রহ করা যায়।
চাষাবাদের ধরণ : গাছের ডাল বর্ষা কালে স্যাঁত স্যাঁতে মাটিতে রোপন করতে হয়, ছোট ছোট ধূসর ও কালো বর্ণের বিচি রোদে শুকিয়ে নরম মাটিতে রোপন করতে হয়।
আবাদী / অনাবাদী / বনজ : আবাদী ও অনাবাদী বনজ সব ধরণের হয়ে থাকে। তবে সাধারণত: বসত বাড়ির শোভা বর্ধনে বাড়ির আঙ্গিনায় এ গাছ রোপন করা হয়।
উদ্ভিদের ধরণ : এটি একটি লতা জাতীয় গাছ। অনেক লম্বা হয়ে থাকে। গাঢ় নীল রঙের ফুল, কিন্তু নিচের দিকটা (এবং ভেতরটা) সাদা- কখনো বা একটু হলদে আভাস দেখা যায়।কোনো অবলম্বন পেলে এটি বেড়ে উঠে।
ঔষধি গুণাগুণ : অপরাজিতার ফুল, পাপড়ি, মূল ও গাছের লতায় নানান ঔষধি গুনাগুণ রয়েছে। মুর্ছা, হিস্টিরিয়া, বয়:সন্ধি কালীন উন্মাদ রোগ, গলগন্ড রোগ, ফুলা রোগ, আধকপালে ব্যথা শুষ্ক কাশি, স্বরভঙ্গ, ঘন ঘন প্রস্রাব, ইত্যাদি রোগে ঔষধি গুনাগুণ রয়েছে।
মুর্ছা বা হিস্টিরিয়া: মূর্ছা আক্রমনের সময় এর মূল গাছ ও পাতা থেঁতে ছেঁকে ১ চা চামচ রস কোনো রকমে খাইয়ে দিলে সেরে যায়।
বয়:সন্ধি কালীন উন্মাদ রোগ: বয়:সন্ধি কালীন উন্মাদ রোগ হলে এর মূলের ছাল ৩ থেকে ৬ গ্রাম পরিমাণ নিয়ে শিলে বেটে দিনে ২ বার আতপচাল ধোয়া পানি দিয়ে ৭ দিন খেতে হয়। পানির পরিমাণ ১/৪ লিটার লাগবে।
গলগন্ড রোগ: গলগন্ড রোগ হলে এর মূল ৫/৬ গ্রাম পরিমাণ ঘি দিয়ে শিলে পিষে অল্প মধু মিশিয়ে সকাল বিকাল ৭ দিন খেলে ভাল হয়ে যায়।
ফুলা রোগ: পুরানো ফুলা রোগে নীল অপরাজিতার পাতা, মূল সহ বেটে অল্প গরম করে লাগালে ফুলা সেরে যায়। ফুলা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত সকালে লাগিয়ে যতক্ষণ রাখা যায় রাখতে হবে।
ঘন ঘন প্রস্রাব: শিশু অথবা বয়ষ্ক যারা ঘন ঘন প্রস্রাব করে এই ক্ষেত্রে সাদা বা নীল অপরাজিতা গাছের মূল সহ রস করে এক চা চামচ প্রত্যেকদিন ২ বার একটু সামান্য দুধ মিশিয়ে সকাল বিকাল এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাওয়া যায়।
স্বরভঙ্গ : সমস্ত লতা পাতা দশ গ্রাম পরিমাণ থেঁতলে ৪/৫ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে দিনে ৩/৪ বার ১৫ মিনিট গারগেল করলে সেরে যায়। ৪/৫ দিন করতে হবে।
শুষ্ক কাশি : অপরাজিতা মূলের রস ১ চা চামচ আধা কাপ অল্প গরম পানিতে মিশিয়ে নিতে হবে। সেই পানি ১০/১৫ মিনিট মুখেপুরে রেখে দিনে ৩বার ৭ দিন গারগেল করতে হবে। তবে খাওয়া যাবেনা।
আধকপালে ব্যথা : এ রোগে যখন ব্যথা হয় তখন এক টুকরা মূল ও গাছ থেঁতলে তার রস হাতের তালুতে কয়ফোঁটা নিয়ে নাক দিয়ে টেনে দিনে দু’তিন বার নস্যি নিলে সেরে যায়।
নিল অপরাজিতা শরবত!!!
অন্যান্য ব্যবহার:
অপরাজিতা ফুলের শরবত: কোন কৃত্তিম রং নয় নিল অপরাজিতা ফুল পিশে বা জুসার মেশিনে দিয়ে জুস করে তুলশীর বিচি ও ডাবের পানি দিয়ে দু ঘন্টা ফ্রিজে ঠান্ডা করে পান করুন অপরাজিতার শরবত। ডাবের পানি ব্যবহার না করে পানি ও ব্যবহার করতে পারেন।


EmoticonEmoticon