পুদিনা পাতা গাছ ও ফুল
পুদিনা পাতা
উদ্ভিদের নাম : পুদিনা Pudina
স্থানীয় নাম : পুদিনা
ভেষজ নাম : Mentha spicata
স্থানীয় নাম : Mint, nana।
প্রজাতি: M. spicata
ব্যবহার্য অংশ : মূল পাতা কান্ড সহ সমগ্র গাছ
রোপনের সময় : বছরের যে কোনো সময়ে রোপন করা যায়।
আবাদী/অনাবাদী/বনজ : আবাদি আনাবাদি ও বনজ সব ধরনের হয়ে থাকে। ভিজা পরিবেশে এবং আর্দ্র মাটি সবচেয়ে ভালো জন্মে. কান্ড সহ গাছটি ১০ থেকে ১২০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়।
চাষ: ডাল ভেজা বা আদ্র মাটি পুতে রাখলেই এ গাছ জন্মে।
পরিচিতি: ছোট গুল্ম জাতীয় গাছ। বহু বর্ষজীবী পাতা ডিম্বাকৃতি, সুগন্ধী যুক্ত। সবুজ।
পুদিনা পাতা প্রাচীনকাল থেকেই বেশ জনপ্রিয় ওষুধ হিসেবে পরিচিত। বহু রোগের আরোগ্যে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পুদিনা পাতা এক ধরনের সুগন্ধি গাছ। এই গাছের পাতা তরি-তরকারির সঙ্গে সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশ্বের অনেক দেশেই পুদিনার গাছ জন্মে। পুদিনা পাতায় ৪০-৯০% মেনথল তেল পাওয়া যায়। যা বিভিন্ন পারফিউম, টুথ পেষ্ট, স্যম্পু ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়।
পুদিনা পাতায় আছে ভিটামিন এ ও ভিটামিন ডি। তাই এই পাতা আমাদের ত্বকের জন্য দারুন উপকারী। সানট্যানের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পুদিনা পাতা বেটে লাগালে উপকার পাওয়া যায়
পুদিনা পাতা প্রাচীনকাল থেকেই বেশ জনপ্রিয় ওষুধ হিসেবে পরিচিত। বহু রোগের আরোগ্যে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পুদিনা পাতা এক ধরনের সুগন্ধি গাছ। এই গাছের পাতা তরি-তরকারির সঙ্গে সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশ্বের অনেক দেশেই পুদিনার গাছ জন্মে। পুদিনা পাতায় ৪০-৯০% মেনথল তেল পাওয়া যায়। যা বিভিন্ন পারফিউম, টুথ পেষ্ট, স্যম্পু ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়।
পুদিনা পাতায় আছে ভিটামিন এ ও ভিটামিন ডি। তাই এই পাতা আমাদের ত্বকের জন্য দারুন উপকারী। সানট্যানের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পুদিনা পাতা বেটে লাগালে উপকার পাওয়া যায়
ঔষধি গুনাগুন :
পুদিনা রুচিজনক অগ্নিবর্ধক, মুখের জড়তা নাশক, কফ ও বাত নষ্টকরে, বলকর, বমন ও অরুচিনাশক, জীবানু নাশক,জীর্ণতার সহায়ক, বায়ুবিকারে ঊপশামক, প্রস্রাব কারক, বমন নিবারক, অরুচি, হিক্কা, জ্বর ও জরান্তিক দুর্বলতা, ব্রঙ্কাইটিস, বাত ইত্যাদিতে ব্যবহার্য্য।এটিকে দিয়ে সুস্বাদু খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুত করা হয়। পাতার সঙ্গে অম্ল মিশিয়ে চাটনী উপাদেয় খাদ্য। এটি অরুচি নষ্ট করে ক্ষুধা বাড়ায়। মুখে দুর্গন্ধ হলে পাতার রস পানিতে মিশয়ে কুলি করলে কাজ হয়।
অরুচিতে: রোগে ভোগার পর, পেটে বায়ু জমে ও কোষ্ঠ বদ্ধতায় অরুচি আসে। একই রকম খাদ্য দীর্ঘদিন খেলে অরুচি আসে। এ সব ক্ষেত্রে পুদিনার সরবত ( পুদিনার রস ২ চা চামচ, সামান্য লবন, কাগজী লেবুর রস ৮/১০ ফোঁটা, হাল্কা গরম পানি পোয়া খানিক একত্রে মিশিয়ে ) সকাল বিকাল দিনে দুই বার ৫/৭ দিন খেলে অরুচি চলে যায়। পুদিনা পাতা বেটে পানিতে গুলে শরবত করা যায়। সে ক্ষেত্রে কাঁচা পাতা ৮/১০ গ্রাম নিতে হবে।
পেট ফাঁপায়: সহজ কথায় পেটে বায়ু জমে যাওয়া। এ অবস্থা সৃষ্টি হলে নানান রোগ হোতে পারে। বদ হজমের ফলে পেটে বায়ু জমে এবং পেট ফাঁপে। এ ক্ষেত্রে পুদিনার শরবত উপরিউক্ত পদ্ধতিতে সারাদিন ২-৩ বার করে কয়দিন খেলে পেটে বায়ু জমা বন্ধ হবে। খাদ্যে রুচিও ফিরে আসবে।
বমিতে: পিত্তে শ্লেষ্মার জ্বর, অম্লপিত্ত, আমাশা, অজীর্ণ, উদরশূল, প্রভৃতিতে বমি হতে পারে। আবার রোদে ঘোরাফিরা করে ঠাণ্ডা পানি খেলে, খালি পেটে থেকে পরিশ্রম করলে বমি হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে পুদিনার শরবতের সাথে এক চা চামুচ তেঁতুল মাড় ও চিনি মিশিয়ে ২/৩ বার করে কয়দিন খেতে হবে।
মুত্রাল্পতায়: অনেক রোগে প্রস্রাব কম হয়। কিন্তু যে ক্ষেত্রে ঠান্ডা গরমের ফলে সাময়িক ভাবে অল্প অল্প প্রস্রাব হতে থাকে কোনো কোনো সময় দাহ হতে থাকে, সে ক্ষেত্রে পুদিনা পাতা ৮/১০ গ্রাম বেটে তাতে সামান্য লবন ও কাগজী লেবুর রস ঠান্ডা পানি মিশিয়ে শরবত করে দিনে ২/৩ বার খেতে হবে। অন্য কোনো রোগে মূত্রাল্পতা হলে সেক্ষেত্রে এটা ব্যবহার করা যাবে কিনা সেটা নির্ভর করবে রোগের ধরনের ঊপর এবং চিকিৎসকের বিচার ধারার উপর।
শিশুদের অতিসারে: পাতলা দাস্ত, সেই সাথে পেট মোচড় দিয়ে ব্যথা, কোন কোন ক্ষেত্রে অল্প আম –সংযুক্ত দাস্ত, সেই সাথে পেট ফাঁপা, হিক্কা বমি বমি ভাব, প্রস্রাবও সরলি হচ্ছেনা, শিশু কিছুই খেতে চাচ্ছেনা। এক্ষেত্রে পুদিনা পাতার রস্ ৮/১০ ফোঁটা আল্প একটু চিনি ও লবন সহযোগে এক ঘন্টা অন্তর কয়েকবার খাওয়াতে হবে। কখন কি ভাবে কতবার খাওয়াতে হবে সেটা নির্ভর করবে রোগীর সুস্থতার ক্রমের দিকে লক্ষ রেখে। বয়স আনুপাতে মাত্রাটা ঠিক করে নিতে হবে।
অ্যাজমা : পুদিনায় রোজমেরিক এসিড নামের এক ধরনের উপাদান থাকে। এটি প্রাকপ্রদাহী পদার্থ তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে অ্যাজমা হয় না। এছাড়াও এ ঔষধি প্রোস্টসাইক্লিন তৈরিতে বাধা দেয়। তাতে শাসনালী পরিষ্কার থাকে।
এন্টিক্যান্সার : পুদিনায় আছে মনোটারপিন নামক উপাদান। যা স্তন, লিভার এবং প্যানক্রিয়াসের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। নিয়মিত খেলে ফুসফুস, কোলন এবং ত্বকের ক্যান্সার থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
ঘাম নিয়ন্ত্রনে: যাদের শরীরে বেশি ঘাম হয় তারা পুদিনা পাতা ও গোলাপের পাপড়ি একসাথে মিশিয়ে পানিতে ফুটিয়ে নিন। ঠাণ্ডা হলে সেই পানির সাথে পাতি লেবুর রস মিশিয়ে ছেঁকে নিয়ে বোতলে করে ফ্রিজে রেখে দিন। গোসলের পর সারা শরীরে লাগান। ঘাম কম হবে।
পুদিনা দিয়ে বিভিন্ন রেসিপি:
পুদিনা পাতার চাটনি: পাতা কুচি করে কেটে বা বেটে কাঁচা মরিচ, লবন ও লেবুর রস মিশিয়ে চাটনি বানানো যায়।
পুদিনা পাতার শরবত: পুদিনা পাতা, চিনি, লবন, কাগজি লেবু l পুদিনা পাতা বেটে অথবা ব্লেন্ডার এ ব্লেন্ড করে পরিমান মত লবন, চিনি ও লেবু মিশিয়ে তৈরী করুন পুদিনা পাতার শরবত।
পুদিনার লাচ্ছি:- উপকরণ:-টক দই –২ কাপ, পুদিনা পাতা কুচি (পরিমাণমতো),বিট লবন –১/২ চা চামচ, চিনি –পরিমানমতো বা জিরোক্যাল এক প্যাকেট, জিরাগুড়া–এক চা চামচ, পানি-১/২ কাপ, পুদিনা পাতা –সাজানোর জন্য। সব উপকরণ ব্লেন্ডারে নিয়ে ভালো মতো ব্লেন্ড করুন। তারপর ফ্রিজে রেখে উপরে পুদিনা পাতা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন রিফ্রেশিং পুদিনা লাচ্ছি।
পুদিনার চাঃ- ঠিক চা এর মত করে চায়ের পাতার বদলে পুদিনা পাতা ও সেই সাথে দুধ চিনি গোল মরিচ ও মৌরি দিয়ে এই চা তৈরী করতে হবে। এই চা খেতে সুস্বাদু এবং খেলে তৃপ্তি হয়। তবে বেশী চা খেলে শরীর খারাপ হতে পারে। ২য় নিয়ম: প্রয়োজনীয় উপকরনঃ১. চা পাতা (লিকার কড়া হলে ভাল). ২. আদা কুচি. ৩. পুদিনা পাতা. ৪. লেবু কুচি. ৫. চিনি (চিনি কম ব্যবহার ভাল). ৬. চরম গরম পানি। কাপ নিয়ে তাতে পরিমান মত চিনি, আদা কুচি, পুদিনা এবং লেবু কুচি দিয়ে হাফ কাপ চরম গরম পানি দিয়ে সামান্য কিছুক্ষন রেখে (দুই-তিন মিনিট বা তরচেয়ে কিছু বেশী)। এবার চা পাতা থেকে বানানো কড়া লিকার দিয়ে ভড়ে দিতে হবে বাকি হাফ কাপ। এবার চামচ দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে প্রস্তুত করুন পুদিনা পাতার চা।


EmoticonEmoticon